দালাল হয়তো একজনের কাছে সীমান্ত পেরোনোর পথ বিক্রি করে। কিন্তু নীরবে যা বিক্রি হয়ে যায়, তা একজন প্রকৃত শরণার্থীর বিশ্বাসযোগ্যতা এবং একজন বৈধ শিক্ষার্থীর সুযোগ।
অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করার অর্থ ন্যায্য বিচার-প্রক্রিয়া নিয়ে নীরব থাকা নয়, আর অর্থনৈতিক নির্ভরতা সরকারের নিজ নাগরিকদের পক্ষে দাঁড়ানোর দায়িত্ব বাতিল করতে পারে না।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিতর্কের এটি একটি পরিচিত ব্যাধি: নিজের ইতিহাস নিয়ে প্রশ্ন উঠলে প্রতিপক্ষের দিকে আঙুল তোলা। আওয়ামী লীগ আঙুল তোলে বিএনপির দিকে। বিএনপি তোলে আওয়ামী লীগের দিকে।
নির্বাচনী মঞ্চে দাঁড়িয়ে একজন রাজনীতিবিদ যদি ধরে নেন যে আল্লাহ কাকে আশীর্বাদ করবেন, কার ইবাদত গৃহীত হবে আর কার বিশ্বাস যথেষ্ট -- তা নির্ধারণ করার কর্তৃত্ব তার আছে, তাহলে আপাতদৃষ্টিতে ঐশী এখতিয়ারও রাজনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণের আওতায় চলে এসেছে।
আধুনিক শিশু সুরক্ষা শিশুদের প্রায় বিপরীত একটি জিনিস শেখায়: তোমার শরীর তোমারই। শিক্ষক, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, আত্মীয় বা অন্য যেকোনো প্রাপ্তবয়স্কের অনুচিত স্পর্শ তুমি প্রত্যাখ্যান করতে পারো। কর্তৃত্বে থাকা কারও বিরুদ্ধেও তুমি অভিযোগ জানাতে পারো। তুমি ভয় পেলে কাউকে বলতে পারো।
বেগম রোকেয়া যদি বেঁচে থেকে "অবরোধবাসিনী" নামটি দেখতেন -- যেই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নারী শিক্ষার্থীরা এসব বিধিনিষেধকে চ্যালেঞ্জ করছেন -- তাহলে হয়তো তিনি এর নতুনত্বের আগে এর ধারাবাহিকতাটাই চিনে ফেলতেন।
যে সংস্কৃতি নির্যাতন সহ্য করার জন্য নারীদের প্রশংসা করে, তা অনিবার্যভাবেই নির্যাতনকারী পুরুষদের জবাবদিহিতাকে দুর্বল করে দেয়।
অনেক জায়গায় এখনো আইন-আদালতের প্রভাব কার্যকর নয়। সমাজ চলে ধর্মীয় প্রভাব, স্থানীয় পিতৃতান্ত্রিক ক্ষমতা, আর জনতার ভয়ের আচ্ছন্নতায়। রাষ্ট্রের হাতে যেখানে বৈধ বলপ্রয়োগের একচেটিয়া ক্ষমতা থাকার কথা, বাস্তবে সেই ক্ষমতা ছড়িয়ে আছে ধর্মীয় গোষ্ঠী, জনতা, আর প্রভাবশালী একটি জালের মধ্যে। ফলে ভুক্তভোগীর পরিবারকে আদালতে যাওয়ার আগে সমাজের বিরুদ্ধে লড়তে হয়।