দরিদ্র ও এতিম শিশুদের নামে দেশ-বিদেশ থেকে আসা কোটি কোটি টাকার অনুদান আর জাকাতের কোনো হিসাব থাকে না। এই লুণ্ঠনের রাজত্ব টিকিয়ে রাখতেই তারা সাধারণ মানুষের কৌতূহলকে দমিয়ে রাখে।
যে প্রতিরক্ষা চুক্তি কেবল তখনই কার্যকর যখন প্রকৃতপক্ষে কেউ আক্রমণের শিকার হচ্ছে না, তা কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি নয়।
বাংলাদেশে একটি জাতীয় যৌন অপরাধী নিবন্ধন নেই -- যা ধর্মীয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাউকে শিশুদের ওপর তত্ত্বাবধানমূলক কর্তৃত্ব দেওয়ার আগে যাচাই করা হয় -- যা বরখাস্তকৃত নির্যাতনকারীদের পরিষ্কার নথিপত্র নিয়ে অন্য কোথাও পুনরায় আবির্ভূত হওয়া রুখতে পারে।
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে হলে স্থানীয় পর্যটক হিসেবে আমরা কী কামনা করি, তার বাইরে গিয়ে বিদেশি পর্যটকরা কীসে আগ্রহী বলে আমাদেরকে জানাচ্ছে সেদিকেই দৃষ্টি দিতে হবে।
শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো সক্ষম নাগরিক, দক্ষ পেশাজীবী, উদ্ভাবনী চিন্তাবিদ এবং সমাজের উৎপাদনশীল সদস্য গড়ে তোলা। যতদিন না বাংলাদেশ এই নীতি গ্রহণ করে, ততদিন আমরা স্নাতকের ক্রমবর্ধমান হারকে উদযাপন করতেই থাকব, অথচ উপেক্ষা করে যাব সেই বাড়তে থাকা স্নাতকদের, যারা অর্থবহ কর্মসংস্থান খুঁজে পাচ্ছে না।
আইনের বাইরে, সহনশীল ধর্মীয় চিন্তাবিদ এবং মধ্যপন্থী কণ্ঠগুলোকে সামনে আসতে হবে, বিকৃত ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে, এবং নৈতিক স্বচ্ছতা পুনরুদ্ধার করতে হবে। এই পথ সহজ নয়। এর জন্য পরিবার থেকে সাহস, রাষ্ট্র থেকে সতর্কতা, এবং নাগরিক সমাজ থেকে নিরলস চাপ প্রয়োজন।
নারীদের প্রকৃত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে আইনকে হতে হবে স্পষ্ট সংজ্ঞাসম্পন্ন, প্রয়োগে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বাস্তবে কার্যকর। কেবল আইনি সংস্কারই যথেষ্ট নয় -- প্রয়োজন আস্থার পুনর্গঠনও।
বর্তমান বিশ্বে বাজার–প্রবেশ ক্রমশ যুক্ত হচ্ছে শ্রমমান, পরিবেশনীতি, ভূরাজনৈতিক অবস্থান, ডিজিটাল শাসন ও পারস্পরিকতার সঙ্গে। এটি অন্যায্য মনে হতে পারে, কিন্তু বাণিজ্যের দিকনির্দেশ এখন এদিকেই যাচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রয়োজন প্রবাসী আয় ও প্রবাসী অর্থনীতি বিষয়ক একটি মন্ত্রণালয়। এটা আমলাতন্ত্র বাড়ানোর প্রস্তাব নয় -- এটা প্রাতিষ্ঠানিক সততার দাবি।
এই সংস্কৃতি শুধু আওয়ামী লীগের নয়; এই সংস্কৃতি বিএনপির এবং জামায়াতেরও -- ভিন্ন পদ্ধতির, কিন্তু একই কাঠামোর। তারাও ক্ষমতার কাছে গিয়ে গণমাধ্যম, শিক্ষাবিদ অঙ্গন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে ব্যবহার করেছে নিজেদের আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে। পার্থক্য হচ্ছে যে হাসিনা আমলে এর পরিমাণ আর সময়কাল আরও বেশি ছিল।
জুলাই ২০২৪ এখনও স্মৃতিতে তাজা। সেই নারীরা -- যারা অপেক্ষা করেনি এবং এগিয়ে এসেছিল। এখন সেই স্মৃতির জন্যও লড়াই চলছে প্রদর্শনীতে, সংগঠনে, লেখায়। এটা একটি অসমাপ্ত বিপ্লব। আর সবচেয়ে অসমাপ্ত অধ্যায়টি নারীদের।
অনেক জায়গায় এখনো আইন-আদালতের প্রভাব কার্যকর নয়। সমাজ চলে ধর্মীয় প্রভাব, স্থানীয় পিতৃতান্ত্রিক ক্ষমতা, আর জনতার ভয়ের আচ্ছন্নতায়। রাষ্ট্রের হাতে যেখানে বৈধ বলপ্রয়োগের একচেটিয়া ক্ষমতা থাকার কথা, বাস্তবে সেই ক্ষমতা ছড়িয়ে আছে ধর্মীয় গোষ্ঠী, জনতা, আর প্রভাবশালী একটি জালের মধ্যে। ফলে ভুক্তভোগীর পরিবারকে আদালতে যাওয়ার আগে সমাজের বিরুদ্ধে লড়তে হয়।
সমাজের রক্ষণশীল অংশ প্রায়ই “প্রথাগত পরিবার”–এর কথা উল্লেখ করে। কিন্তু বাস্তবে সমাজের অনেক স্তরেই সেই আদর্শ কাঠামো ভেঙে গেছে বা পরিবর্তিত হয়েছে। এই বাস্তবতা ধর্মীয় উপদেশ বা প্রচারের মাত্রা যতই বাড়ুক না কেন, তাতে পরিবর্তিত হবে না।
বাস্তবতা হলো যে কাউন্সেলিং, থেরাপি, বৈদ্যুতিক শক, ধর্মীয় উপদেশ, কালোজাদু, জোরপূর্বক বিপরীত লিঙ্গের সাথে কাউকে বিয়ে দেওয়া, এমনকি তার সাথে যৌন সম্পর্ক -- এসব কিছুই একজন সমকামী মানুষকে বিষমকামী বানাতে পারে না (উল্টাটাও তাই)। অতএব, যৌন অভিমুখিতা একজন মানুষের জন্মগত বৈশিষ্ট্য এবং এর ভিত্তিতে কোনো প্রকার বৈষম্য করা যাবে না।
ইতিহাস বলছে, উপমহাদেশে এক সময়ে যৌনতার বৈচিত্র্যের প্রতি সমাজের সহনশীলতা ছিল। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আইন এবং ভিক্টোরীয় নৈতিকতা, সঙ্গে ইসলাম ধর্মের ব্যাখ্যা মিলেই আজকের এই অসহিষ্ণু সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশে যৌন সংখ্যালঘু মুসলমান, হিন্দু বা অন্যদের পরিণতি কী?