সমাজ

যে নারীরা আগুন জ্বালিয়েছিল

জুলাই ২০২৪ এখনও স্মৃতিতে তাজা। সেই নারীরা -- যারা অপেক্ষা করেনি এবং এগিয়ে এসেছিল। এখন সেই স্মৃতির জন্যও লড়াই চলছে প্রদর্শনীতে, সংগঠনে, লেখায়। এটা একটি অসমাপ্ত বিপ্লব। আর সবচেয়ে অসমাপ্ত অধ্যায়টি নারীদের।

সংস্কারের সময় এখনই

সমাজের রক্ষণশীল অংশ প্রায়ই “প্রথাগত পরিবার”–এর কথা উল্লেখ করে। কিন্তু বাস্তবে সমাজের অনেক স্তরেই সেই আদর্শ কাঠামো ভেঙে গেছে বা পরিবর্তিত হয়েছে। এই বাস্তবতা ধর্মীয় উপদেশ বা প্রচারের মাত্রা যতই বাড়ুক না কেন, তাতে পরিবর্তিত হবে না।

যৌন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়: বিজ্ঞান ও বাস্তবতা

বাস্তবতা হলো যে কাউন্সেলিং, থেরাপি, বৈদ্যুতিক শক, ধর্মীয় উপদেশ, কালোজাদু, জোরপূর্বক বিপরীত লিঙ্গের সাথে কাউকে বিয়ে দেওয়া, এমনকি তার সাথে যৌন সম্পর্ক -- এসব কিছুই একজন সমকামী মানুষকে বিষমকামী বানাতে পারে না (উল্টাটাও তাই)। অতএব, যৌন অভিমুখিতা একজন মানুষের জন্মগত বৈশিষ্ট্য এবং এর ভিত্তিতে কোনো প্রকার বৈষম্য করা যাবে না।

বাংলাদেশ ২.০-এ সমকামভীতি: এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা

ইতিহাস বলছে, উপমহাদেশে এক সময়ে যৌনতার বৈচিত্র্যের প্রতি সমাজের সহনশীলতা ছিল। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আইন এবং ভিক্টোরীয় নৈতিকতা, সঙ্গে ইসলাম ধর্মের ব্যাখ্যা মিলেই আজকের এই অসহিষ্ণু সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশে যৌন সংখ্যালঘু মুসলমান, হিন্দু বা অন্যদের পরিণতি কী?

এটাই কি সেই বাংলাদেশ, যেটা আমরা চেয়েছিলাম?

নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আর সংখ্যালঘু অধিকারকে কেন্দ্রবিন্দুতে আনতেই হবে। সীমান্তের ওপার থেকে আসা উসকানিমূলক অভিযোগের জন্য নয়, বরং কারণ এটা নৈতিকভাবে সঠিক।

যখন হাসির খোঁচা লাগে গণতন্ত্রে

পরীক্ষাটা খুব সহজ: আমাদের নেতারা কি রসিকতা সহ্য করতে পারেন? সমালোচনার সামনে পড়ে কি তারা হাতকড়া খোঁজেন? ভিন্নমত আর মিথ্যাঘটিত অপবাদ — এই দু’টির ফারাক কি তারা বোঝেন? যদি উত্তর “না” হয়, তাহলে আমরা কোনো কর্তৃত্ববাদী শাসনকে সরিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করিনি। আমরা কেবল মুখগুলো বদলেছি, আর এতে মোটেও হাসির কিছু নেই।