যার মনে যা, ফাল দিয়ে উঠে তা
জাতীয় স্বার্থে পুনর্মিলন জরুরি -- এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু তার ন্যূনতম শর্ত হলো দায় স্বীকার, অনুতাপ ও অনুশোচনা। এই তিনটিতেই আওয়ামী লীগ ব্যর্থ। ফলে তাদের রাজনৈতিক পুনঃসংযুক্তি এখনই সম্ভব নয়।
আল-জাজিরায় সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তার দুটি কথা চোখে পড়েছে -- একটি স্পষ্ট মিথ্যা, আরেকটি অনিচ্ছাকৃত সত্য।
জয় বলেন, “আমার মা যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করতে রাজি থাকতেন, তাহলে তিনি এখনও ক্ষমতায় থাকতেন।” এটি নির্লজ্জ মিথ্যা। জুলাই–আগস্ট ২০২৪-এ শত শত মানুষ নিরাপত্তা বাহিনী ও দলীয় ক্যাডারদের গুলিতে নিহত হয়েছেন। শেখ হাসিনা ক্ষমতা হারান এই কারণে নয় যে তিনি হত্যা করতে চাননি, বরং সেনাবাহিনী যে তার সেই আদেশ মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, সেই কারণে।
আরও ভয়ংকর ছিল তার দ্বিতীয় মন্তব্যটি -- “এখন যদি আমাদের হত্যার সক্ষমতা থাকত, এই সরকার কি টিকে থাকত?” এখানে আর ব্যাখ্যার দরকার নেই। কথাটাই নিজে নিজের সাক্ষ্য।
এই দুই বক্তব্য মিলিয়ে স্পষ্ট যে আওয়ামী লীগের মৌলিক মানসিকতায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। তারা ২০২৪-এর গণহত্যার কোনো স্বীকারোক্তি, অনুশোচনা বা ক্ষমা প্রার্থনা তো করেইনি, বরং ইঙ্গিতে জানাচ্ছে যে সুযোগ পেলে আবারও সহিংস পথেই তারা ক্ষমতায় ফিরতে প্রস্তুত।
জাতীয় স্বার্থে পুনর্মিলন জরুরি -- এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু তার ন্যূনতম শর্ত হলো দায় স্বীকার, অনুতাপ ও অনুশোচনা। এই তিনটিতেই আওয়ামী লীগ ব্যর্থ। ফলে তাদের রাজনৈতিক পুনঃসংযুক্তি এখনই সম্ভব নয়।
এই সাক্ষাৎকার আরও একটি বিষয় নিশ্চিত করেছে -- অন্তর্বর্তী সরকারের যে মূল্যায়ন, যে আওয়ামী লীগ এখন আর সাধারণ রাজনৈতিক দল নয় বরং সহিংসতায় প্রস্তুত একটি প্রতিষ্ঠান, তা দুর্ভাগ্যজনকভাবে সত্যি।
সংক্ষেপে -- তারা কিছুই শেখেনি, কিছুই ভুলে যায়নি। পার্থক্য একটাই: তারা এখন ক্ষমতায় নেই।
What's Your Reaction?