দীর্ঘপ্রবন্ধ

বাংলাদেশ থেকে কি হিন্দুরা পালিয়ে যাচ্ছে? আসল চিত্রটা ভিন্ন।

গত দুই বছরে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে বলে সরকার, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ নাগরিকরা এখন অন্তত ঘটনা প্রতিরোধে সতর্ক ও উদ্বিগ্ন।

পার্টিতে ৮৫ জনকে গ্রেপ্তারের মতো আপাতদৃষ্টে সামান্য একটি ঘটনার সাথে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকটের সম্পর্ক কী?

মাদকবিরোধী লড়াইয়ের নামে বন্দুক হাতে টিকটকে হাজির হওয়া ইশরাকের বিরুদ্ধে এবং একটি ক্লিনিক দখল করে নেওয়া বিএনপির নারী সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন যে এই ধাঁচের আচরণ তিনি সহ্য করবেন না।

কতকাল তারা আমাদের শ্রমিকদেরকে হত্যা করবে, আর আমরা পাশে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে থাকব?

আমরা তাদেরকে "রেমিট্যান্স যোদ্ধা" বলি, আর এই উপাধি তারা অর্জন করেছে। তাদের অর্থ লাখ লাখ পরিবারকে টিকিয়ে রেখেছে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুতকে শক্ত করে রেখেছে। তারা দুটি দেশকে পিঠে বয়ে বেড়াচ্ছে।

যখন যৌনতা হয়ে ওঠে ভিসা কৌশল

দালাল হয়তো একজনের কাছে সীমান্ত পেরোনোর পথ বিক্রি করে। কিন্তু নীরবে যা বিক্রি হয়ে যায়, তা একজন প্রকৃত শরণার্থীর বিশ্বাসযোগ্যতা এবং একজন বৈধ শিক্ষার্থীর সুযোগ।

রাষ্ট্র যখন প্রাণদণ্ড কার্যকর করে, তখন নাগরিকদের রক্ষা করে কে?

অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করার অর্থ ন্যায্য বিচার-প্রক্রিয়া নিয়ে নীরব থাকা নয়, আর অর্থনৈতিক নির্ভরতা সরকারের নিজ নাগরিকদের পক্ষে দাঁড়ানোর দায়িত্ব বাতিল করতে পারে না।

কাকে বিশ্বাস করব: আবদুর রাজ্জাক, নাকি মিয়া গোলাম পরওয়ারকে?

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিতর্কের এটি একটি পরিচিত ব্যাধি: নিজের ইতিহাস নিয়ে প্রশ্ন উঠলে প্রতিপক্ষের দিকে আঙুল তোলা। আওয়ামী লীগ আঙুল তোলে বিএনপির দিকে। বিএনপি তোলে আওয়ামী লীগের দিকে।

আরেকটি শিশু শিরোনাম হয়ে ওঠার আগে

কেবল থানা, আদালত ও কারাকক্ষ দিয়ে একটি জাতি সুরক্ষিত হয় না। তার গভীরতম নিরাপত্তা নিহিত রয়েছে একটি শিশু ও তার চারপাশের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যকার আস্থায়। সেই আস্থা ভেঙে পড়লে মর্মান্তিক ঘটনার পর যত গ্রেপ্তারই হোক, তা আর ফেরানো যায় না।

নীরবতার স্থাপত্য ভেঙে ফেলা

একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রকৃত চরিত্র কখনো তার অবকাঠামোগত বৃহত্ত-প্রকল্প, জিডিপির ঊর্ধ্বমুখী গতিপথ, বা উঁচু ভবনের ছায়া দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। আমাদের সভ্যতার প্রকৃত মানদণ্ড সম্পূর্ণভাবে নিহিত আমাদের সবচেয়ে অসহায় শিশুর বেঁচে থাকা নিশ্চিত করার সামর্থ্যে।

যখন রাজনৈতিক নাগরিকত্বের জন্য প্রয়োজন হয়ে পড়ে ধর্মীয় বিশুদ্ধতার পরীক্ষা

নির্বাচনী মঞ্চে দাঁড়িয়ে একজন রাজনীতিবিদ যদি ধরে নেন যে আল্লাহ কাকে আশীর্বাদ করবেন, কার ইবাদত গৃহীত হবে আর কার বিশ্বাস যথেষ্ট -- তা নির্ধারণ করার কর্তৃত্ব তার আছে, তাহলে আপাতদৃষ্টিতে ঐশী এখতিয়ারও রাজনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণের আওতায় চলে এসেছে।

ধোঁয়া ছাড়াও কখনো আগুন জ্বলে

আধুনিক শিশু সুরক্ষা শিশুদের প্রায় বিপরীত একটি জিনিস শেখায়: তোমার শরীর তোমারই। শিক্ষক, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, আত্মীয় বা অন্য যেকোনো প্রাপ্তবয়স্কের অনুচিত স্পর্শ তুমি প্রত্যাখ্যান করতে পারো। কর্তৃত্বে থাকা কারও বিরুদ্ধেও তুমি অভিযোগ জানাতে পারো। তুমি ভয় পেলে কাউকে বলতে পারো।

রাত ১০টা পর্যন্তই নাগরিক

বেগম রোকেয়া যদি বেঁচে থেকে "অবরোধবাসিনী" নামটি দেখতেন -- যেই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নারী শিক্ষার্থীরা এসব বিধিনিষেধকে চ্যালেঞ্জ করছেন -- তাহলে হয়তো তিনি এর নতুনত্বের আগে এর ধারাবাহিকতাটাই চিনে ফেলতেন।

ইসলামিক ন্যাটোর হৈ চৈ-এর বাইরে

বঙ্গোপসাগরের নিরাপত্তা কি রাতারাতি উন্নত হবে? ভারতের সঙ্গে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কি সহজ হবে? মিয়ানমারের সঙ্গে সমস্যাগুলোর সমাধান হবে? রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হবে? জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে? উত্তর যদি না হয়, তাহলে একটি কঠিন প্রশ্ন করতেই হবে -- কোন সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে আমরা কোন নতুন সমস্যা আমদানি করছি?

কিন্তু কেন তিনি চলে যাননি?

যে সংস্কৃতি নির্যাতন সহ্য করার জন্য নারীদের প্রশংসা করে, তা অনিবার্যভাবেই নির্যাতনকারী পুরুষদের জবাবদিহিতাকে দুর্বল করে দেয়।

বাংলাদেশের চারটি শিক্ষাধারা এক করতে হবে কেন

এই শ্রেণি একদিকে তাদের সন্তানদেরকে ইংরেজি মাধ্যমে পাঠাচ্ছে, আবার একইসঙ্গে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা করছে -- সম্ভবত কওমি মাদ্রাসাগুলোকে।

যৌন অভিমুখিতা ও লিঙ্গ পরিচয়কে তালিকায় যুক্ত করার সময় এসেছে

যৌন অভিমুখিতা এবং লিঙ্গ পরিচয় যেহেতু জৈবিক এবং অপরিবর্তনীয়, সেহেতু এগুলোর ভিত্তিতে বাংলাদেশ ২.০-এ কোনো প্রকার রাষ্ট্রীয় বৈষম্য মেনে নেওয়া যাবে না।

বাংলাদেশে বাঙালি মুসলমানদের পরিচয়-সংকট

চূড়ান্ত চ্যালেঞ্জটি ‘বাঙালি’ না ‘মুসলমান’ -- এই দ্বৈত পছন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এই দুই পরিচয়ের সহাবস্থানকে একটি গণতান্ত্রিক, বহুত্ববাদী ও আত্মবিশ্বাসী সমাজের বিস্তৃত কাঠামোর মধ্যে উপলব্ধি করা। এই ভ্রান্ত দ্বন্দ্ব অতিক্রম করেই বাঙালি মুসলমানরা তাদের দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা কাটিয়ে একটি স্থিতিশীল আত্মপরিচয় গড়ে তুলতে পারে।