বাংলাদেশের হুজুর শ্রেণির মধ্যে শিশুকামিতার বিশ্লেষণ

বাংলাদেশে একটি জাতীয় যৌন অপরাধী নিবন্ধন নেই -- যা ধর্মীয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাউকে শিশুদের ওপর তত্ত্বাবধানমূলক কর্তৃত্ব দেওয়ার আগে যাচাই করা হয় -- যা বরখাস্তকৃত নির্যাতনকারীদের পরিষ্কার নথিপত্র নিয়ে অন্য কোথাও পুনরায় আবির্ভূত হওয়া রুখতে পারে।

Sep 13, 2026 - 12:10
বাংলাদেশের হুজুর শ্রেণির মধ্যে শিশুকামিতার বিশ্লেষণ
Photo Credit: Shutterstock

এপ্রিলে নেত্রকোণায় এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে তার ১১ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে বারবার ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। জুলাই নাগাদ মেয়েটি তার সন্তান প্রসব করে -- পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষায় ৯৯.৯৯% নিশ্চয়তার সঙ্গে তা প্রমাণিত হয়। এই ঘটনার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতাগুলো গুরুত্বপূর্ণ, এবং তার নিজস্ব হিসাব-নিকাশ প্রাপ্য।

কিন্তু প্রতিষ্ঠানের আড়ালে থাকে একজন মানুষ, আর সেই মানুষের আড়ালে থাকে এমন এক মন, যে একটি শিশুকে যৌনভাবে সহজলভ্য মনে করেছে এবং তার ওপর বারবার তা প্রয়োগ করেছে -- সেই অভ্যন্তরীণ বাধা ছাড়াই, যা সাধারণত অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে এমন চিন্তা থেকে চিরতরে দূরে রাখে। সেই মন, এবং যেই সামাজিক অনুমতি-কাঠামো তাকে প্রকাশ্যে কাজ করতে দেয় -- এই লেখাটি তা নিয়েই।

ব্যাধিটিকে না লুকিয়ে নাম দেওয়া উচিত

প্রাক-বয়ঃসন্ধি বা বয়ঃসন্ধির প্রথম পর্যায়ের শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণ কোনো পছন্দ, সাময়িক অবস্থা, বা অবিবাহিত পুরুষের দমিত কামনার লক্ষণ নয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি একটি প্যারাফিলিক (প্রচলিত বা স্বাভাবিক যৌন আগ্রহের বাইরে কোনো নির্দিষ্ট বস্তু, ব্যক্তি, পরিস্থিতি বা আচরণকে কেন্দ্র করে যৌন আকর্ষণ বা উত্তেজনার সঙ্গে সম্পর্কিত) ব্যাধি, যা আইসিডি-১১ এবং ডিএসএম-৫ উভয় শ্রেণিবিন্যাসেই তালিকাভুক্ত, এবং যা বয়স-উপযুক্ত সঙ্গীর বদলে শিশুর প্রতি নির্দেশিত এক দীর্ঘস্থায়ী, প্রায়ই সারাজীবন-ব্যাপী উত্তেজনার ধরন হিসেবে সংজ্ঞায়িত।

এটি কামনার একটি বিকৃতি, কোনো রূপভেদ নয়। কেউ যখন সেই আকর্ষণের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে, অথবা যখন সেরকম কোনো স্থায়ী প্রবণতা নেই, এমন কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ শুধু সুযোগ ও দায়মুক্তি থাকার সুবিধা বুঝে একটি শিশুকে শোষণ করে -- উভয়ই অপরাধ, এবং উভয়েরই বিচার প্রাপ্য।

তবুও এই দুটি মানসিকভাবে অভিন্ন নয়। আর বাংলাদেশের প্রকাশ্য আলোচনায় এই পার্থক্যটি প্রায় কখনোই করা হয় না। ঠিক এভাবেই এত বেশি নির্যাতনকে একটি দুর্ভাগ্যজনক অথচ বোধগম্য মানবিক দুর্বলতা বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়, সেগুলোর প্রকৃত নাম না দিয়েই।

এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি একটি ব্যাখ্যাকে বাতিল করে দেয়। শিশুর প্রতি স্থায়ী যৌন আকর্ষণসম্পন্ন কোনো পুরুষ এই কারণে আকর্ষণ গড়ে তোলে না, যে সে অবিবাহিত বা বেহেশতের প্রতিশ্রুতিতে ধর্মতাত্ত্বিকভাবে অতিরিক্ত উদ্দীপিত।

বাংলাদেশের হুজুররা বৈধ যৌন সুযোগবঞ্চিত কোনো ব্রহ্মচারী শ্রেণি নয়। ইসলাম কখনো ধর্মীয় শিক্ষকদের জন্য ব্রহ্মচর্য দাবি করে না, বরং বিয়েকে উৎসাহিত করে এবং তা তাদের জন্য সহজলভ্যও -- অনেক হুজুরই বিয়ে করে, প্রায়ই একাধিকবার।

পুরুষদের পরকালের প্রতিশ্রুতি পর্যন্ত যৌনতা থেকে বঞ্চিত রাখার তত্ত্ব এই মৌলিক তথ্যের সংস্পর্শেই ভেঙে পড়ে। যা প্রকৃতপক্ষে এই ধরনটি ব্যাখ্যা করে তা কোনো হতাশা নয় -- বরং তা সুযোগ, কর্তৃত্ব, এবং ধর্মীয় পোশাক পরিহিত একজন পুরুষকে "না" বলার মতো কারও প্রায়-সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি।

স্বাভাবিকীকরণের যন্ত্র

আকর্ষণটি নিজেই যদি একটি ব্যাধি হয়, তবে চারপাশের অনুমতি-কাঠামোটি একটি সামাজিক পছন্দ -- এবং বাংলাদেশ এই অঞ্চলের অন্যতম কার্যকর এমন একটি কাঠামো গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশে এখনো বিশ্বের সর্বোচ্চ বাল্যবিবাহের হারগুলোর একটি বিদ্যমান।

যখন কোনো সমাজ নিয়মিতভাবে আঠারো বছর বয়সের আগেই মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেয়, তখন তা কেবল সেই মেয়েদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয় না। তা এমন একটি সাংস্কৃতিক শ্রেণি তৈরি করে, যেখানে একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের যৌন ও বৈবাহিক আগ্রহ একটি শিশুর প্রতি বিকৃত নয়, বরং স্বাভাবিক -- কখনো কখনো কাম্যও -- বিবেচিত হয়, যদি আগে একটি নিকাহ সম্পন্ন হয়।

নিকাহ হয়ে ওঠে এক শুদ্ধিকরণ আচার: একই আচরণ এক দিন অকথ্য, আর পরের দিনই পবিত্র -- অথচ শিশুটির বয়স, বিকাশ, বা সম্মতির সক্ষমতায় কোনো পরিবর্তন হয় না, কেবল একটি কাগজপত্রের পরিবর্তন ঘটে।

এই শুদ্ধিকরণ প্রভাবের একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয়-আইনি শব্দভাণ্ডার আছে, যা তাকে বুদ্ধিবৃত্তিক আবরণ দেয়।

কম বয়সে বিয়ের পক্ষে রক্ষণশীল কণ্ঠস্বরসমূহ প্রায়ই মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে আয়েশা (রা.)-এর বিবাহের উদাহরণ টানে, আয়েশা (রা.)-এর তৎকালীন কম বয়সকে শাস্ত্রীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করে, এবং তার সঙ্গে এই যুক্তি জুড়ে দেয় যে মানসিক বা আবেগগত পরিপক্বতা নির্বিশেষে শুধু শারীরিক বয়ঃসন্ধিই বিবাহযোগ্যতার সংকেত।

আজকের বাংলাদেশে এই ঐতিহাসিক প্রশ্নে ধর্মীয় পণ্ডিতদের মধ্যে যে তাত্ত্বিক বিতর্কই থাকুক না কেন, এর ব্যবহারিক কার্যকারিতা স্পষ্ট: হুজুর ও তাদের সমর্থকরা বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আপত্তি থামাতে এই যুক্তিটি প্রকাশ্যে ও বারবার প্রয়োগ করে, একে ইসলামবিরোধী পাশ্চাত্য আমদানি বলে আখ্যা দিয়ে।

সেই যুক্তি কেবল একটি বিবাহ প্রথাকেই রক্ষা করে না। তা গোটা একটি সমাজকে -- হুজুরদেরসহ -- এমনভাবে প্রস্তুত করে যে তারা একটি শারীরিকভাবে বয়ঃসন্ধিপ্রাপ্ত শিশুর প্রতি যৌন ও বৈবাহিক আগ্রহকে শিকারীসুলভ নয়, বরং ধার্মিক বলে শ্রেণিবদ্ধ করে -- যদি সঠিক আচার-শব্দগুলো তার ওপর বলা হয়।

যে ব্যক্তি তার কর্মজীবন জুড়ে ধর্মীয় বক্তৃতার মঞ্চ থেকে এই যুক্তি ব্যবহার করে বাল্যবিবাহকে রক্ষা করে এসেছে, তার নিজের মনে "এই শিশুটি আমার স্ত্রী হতে পারে" আর "এই শিশুটি আমার শিকার হতে পারে" -- এই দুইয়ের মধ্যকার রেখাটি বিপজ্জনকভাবে ক্ষীণ হয়ে যাওয়াটা ব্যাখ্যা করতে তার কোনো মনগড়া মনস্তাত্ত্বিক তত্ত্বের প্রয়োজন নেই। ধর্মতত্ত্বই তার হয়ে সেই কাজটি করে দিয়েছে।

কর্তৃত্বই প্রকৃত ত্বরক

বিয়ে-শুদ্ধিকরণের প্রসঙ্গ সরিয়ে রেখে দেখা যাক ধর্ম ও দেশ নির্বিশেষে ধর্মযাজকদের দ্বারা যৌন নির্যাতনের সঙ্গে আসলে কীসের সম্পর্ক রয়েছে: শিশুদের ওপর অতিরিক্ত, অপর্যবেক্ষিত ও অপ্রশ্নবিদ্ধ কর্তৃত্ব, এবং এমন একটি সম্প্রদায় যাকে সেই কর্তৃত্বকে যাচাইয়ের ঊর্ধ্বে বলে মেনে নিতে প্রশিক্ষিত করা হয়েছে।

একজন হুজুর এমন এক অবস্থানে থাকে, যা প্রশ্ন করতে অধিকাংশ বাংলাদেশিরাই সাংস্কৃতিকভাবে অভ্যস্ত নয় -- খোদার অধিক নিকটবর্তী, আনুগত্য পাওয়ার যোগ্য, একজন অপরিচিতের প্রতি যে স্বাভাবিক সন্দেহ জাগে তা থেকে মুক্ত।

ঠিক এই শর্তটিই প্রকৃত প্যারাফিলিক ব্যাধিগ্রস্ত পুরুষ এবং নিছক সুযোগসন্ধানী নির্যাতনকারী -- উভয়কেই শিকার বেছে নিতে, সম্প্রদায়কে নীরবতার দিকে প্রশিক্ষিত করতে, এবং বছরের পর বছর তা চালিয়ে যেতে সক্ষম করে।

মনোবিজ্ঞানীরা একে বলেন নৈতিক ছাড়পত্র প্রদান। এটি এমন এক বিষয়, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তির অনুভূত পুণ্যবত্তা তার নিজের এবং তার চারপাশের মানুষের পক্ষে তার দোষী হওয়ার সম্ভাবনাটুকু ভাবাও অসম্ভব করে তোলে।

সে যত বেশি ধর্মপরায়ণ দেখায়, তাকে অভিযুক্ত করা তত কঠিন হয়ে পড়ে, এবং সে কাজ করার জন্য তত বেশি অবকাশ পায়।

এটি পরিমাপযোগ্য ও দলিলভুক্ত তথ্য, কারও ব্যক্তিগত কল্পনা নিয়ে অনুমান নয়। আর ঠিক এই কারণেই এই কর্তৃত্ব-কাঠামোর প্রতিনিধিরা নিজেদের মধ্যে থেকে এত কম সংখ্যায় প্রতিবাদ করে ওঠে।

আইন থেকে শুরু করে জবাবদিহিতার জন্য যা প্রয়োজন

বাংলাদেশের আইনি কাঠামো এই সমস্যাকে তার প্রকৃত রূপে মোকাবিলা করে না। শিশুকামিতাকে সুনির্দিষ্টভাবে অপরাধ ঘোষণা করার মতো কোনো স্বতন্ত্র আইন নেই; শিশু যৌন নির্যাতনের বিচার হয় খণ্ডিতভাবে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এবং দণ্ডবিধির ধর্ষণ-সংক্রান্ত ধারার অধীনে, যে দুটিই সংকীর্ণতর অপরাধের জন্য রচিত।

দণ্ডবিধির বৈবাহিক ধর্ষণ সংক্রান্ত ব্যতিক্রমগুলো একজন স্বামীকে বিচার থেকে রক্ষা করে, যদি তার স্ত্রীর বয়স তেরো বছরের কম না হয়।

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের কুখ্যাত "বিশেষ বিধান"-এর সঙ্গে মিলিয়ে -- যা অস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত "বিশেষ পরিস্থিতিতে" আদালতের অনুমোদনক্রমে আঠারো বছরের নিচে বিয়ের অনুমতি দেয় -- এটি এমন একটি আইনি ফাঁক তৈরি করে, যার মধ্য দিয়ে একজন ধর্ষক বিয়ে করে ধর্ষণের অভিযোগ থেকে বেরিয়ে যেতে পারে।

ছেলেশিশুদের অবস্থা আরও খারাপ: ২০০০ সালের আইনের সুরক্ষা ষোলো বছর বয়সেই শেষ হয়ে যায়, আর বাংলাদেশের ধর্ষণ আইন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের ধর্ষণকে স্বীকৃতিই দেয় না -- ফলে হুজুরদের দ্বারা নির্যাতিত পুরুষ ভুক্তভোগীরা সেই বয়স পেরোনোর পর কোনো সমতুল্য আইনি পথ ছাড়াই থেকে যায়।

এখানে কোনো যৌন অপরাধী নিবন্ধনের ব্যবস্থা নেই, কোনো অভিযোগ করার আইনি বাধ্যবাধকতা নেই, এবং এমন কোনো আইনি প্রক্রিয়াও নেই যা আজীবন পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন এমন নির্ণীত শিশুকামী এবং কারাদণ্ডের প্রয়োজন এমন সুযোগসন্ধানী নির্যাতনকারীর মধ্যে পার্থক্য করে।

এটি ঠিক করতে নির্দিষ্ট, অর্জনযোগ্য পরিবর্তন প্রয়োজন, নৈতিকতার প্রতি অস্পষ্ট আবেদন নয়। সংসদের উচিত বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের বিশেষ-বিধান ফাঁকটি বাতিল করা -- যার মাধ্যমে ধর্ষণকে আইনি স্বীকৃত বিবাহে রূপান্তরের কোনো পথ না থাকে -- এবং বৈবাহিক ধর্ষণ ব্যতিক্রমের বয়স-সীমাটি সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত করা।

২০০০ সালের আইনের সুরক্ষা ছেলেদের ক্ষেত্রেও মেয়েদের সমান আঠারো বছর পর্যন্ত বাড়ানো উচিত, এবং ধর্ষণ আইনে বয়স নির্বিশেষে পুরুষ ভুক্তভোগীদেরও স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।

অভিযোগ করার জন্য একটি বাধ্যতামূলক আইন থাকা উচিৎ, যাতে প্রতিটি শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রধানকে সন্দেহভাজন শিশু যৌন নির্যাতনের বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পুলিশকে জানাতে বাধ্য করা হয়; আর যারা তার বদলে প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষা করে, তাদের জন্য ফৌজদারি দায় থাকা উচিত।

বাংলাদেশে একটি জাতীয় যৌন অপরাধী নিবন্ধন নেই -- যা ধর্মীয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাউকে শিশুদের ওপর তত্ত্বাবধানমূলক কর্তৃত্ব দেওয়ার আগে যাচাই করা হয় -- যা বরখাস্তকৃত নির্যাতনকারীদের পরিষ্কার নথিপত্র নিয়ে অন্য কোথাও পুনরায় আবির্ভূত হওয়া রুখতে পারে।

শেষত, দণ্ডাদেশে নির্ণীত শিশুকামী -- যাদের কারাদণ্ডের পাশাপাশি মনোরোগ মূল্যায়ন ও মুক্তি-পরবর্তী পর্যবেক্ষণের মুখোমুখি হওয়া উচিত -- এবং সুযোগসন্ধানী নির্যাতনকারীদের -- যাদের নির্বাচনী দর-কষাকষির বদলে ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগকৃত সর্বোচ্চ সাজার মুখোমুখি হওয়া উচিত -- এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করা উচিত।

একে তার প্রকৃত নামে ডাকা উচিৎ

কোনো হুজুর ব্যক্তিগতভাবে কী কল্পনা করে তা নিয়ে তত্ত্ব দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই, এবং একটি ধর্মীয় পোশাকে আবৃত গোটা একটি গোষ্ঠীকে সহজাতভাবে ব্যাধিগ্রস্ত বলে গণ্য করা প্রয়োজন নেই।

এর জন্য প্রয়োজন অনেক সহজ ও অধিকতর যুক্তিসঙ্গত একটি দাবি মেনে নেওয়া -- যে বাংলাদেশ এমন একটি সংস্কৃতি, একটি আইনি কাঠামো, এবং একগুচ্ছ ধর্মীয় যুক্তি গড়ে তুলেছে, যা একসঙ্গে একটি শিশুর শরীরকে প্রাপ্তবয়স্কদের কামনার বৈধ বিষয় বলে ভুল করাকে সহজ করে তোলে -- যদি সেই আয়োজনে সঠিক শব্দগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

প্রতিটি অজুহাত সরিয়ে ফেলুন -- তা ঐতিহ্যই হোক, বয়ঃসন্ধিই হোক, নাবালকের সর্বোত্তম স্বার্থই হোক, বা বিশেষ পরিস্থিতিই হোক -- যা অবশিষ্ট থাকে তা হলো এমন একটি সমাজ, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের শিশু কামনার একটি শব্দভাণ্ডার দিয়ে এসেছে, আর তাকে ধার্মিকতা বলে ডেকেছে।

সিলেটের একটি ১১ বছর বয়সী মেয়ে এই মুহূর্তে একজন মা, কারণ সেই শব্দভাণ্ডারটি ঠিক যেভাবে পরিকল্পিত হয়েছিল সেভাবেই কাজ করেছে। সে নিজেকে কোনো স্বাভাবিক কিছু থেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়নি।

ধর্মতাত্ত্বিক, আইনগত ও সামাজিকভাবে এমন এক কাঠামো তাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে, যেই কাঠামো তার ওপর সংঘটিত লঙ্ঘনকে স্পষ্টতই যা ছিল, তা বাদে অন্য যেকোনো কিছু হিসেবে দেখার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিল।

বাংলাদেশ যত দিন পর্যন্ত এটা বলতে প্রস্তুত নয়, যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শিশুর প্রতি যৌন আকর্ষণ একটি অসুস্থতা -- সেই আকর্ষণকে বৈধতার আনুষ্ঠানিকতা যেই সম্পন্ন করুক না কেন -- তত দিন পরবর্তী শিশুটিকে ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা হবে না। সে হবে সেই ব্যবস্থারই পরিণতি, যেই ব্যবস্থা ঠিক এভাবেই কাজ করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

মো: আবরার গালিব চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির একজন ছাত্র। তাঁর লেখালেখির আগ্রহের বিষয় রাজনীতি, শাসনব্যবস্থা, অর্থনৈতিক বিষয়াদি এবং মানবাধিকার। তার সঙ্গে [email protected] ঠিকানায় যোগাযোগ করা যাবে

Md. Abrar Galib Md. Abrar Galib is a student of Economics at the University of Chittagong. His writing interests include politics, governance, economic affairs, and human rights. He can be reached at [email protected].