বিশ্লেষণ

নারীর ক্ষেত্রে আইন যখন ব্যর্থ

নারীদের প্রকৃত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে আইনকে হতে হবে স্পষ্ট সংজ্ঞাসম্পন্ন, প্রয়োগে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বাস্তবে কার্যকর। কেবল আইনি সংস্কারই যথেষ্ট নয় -- প্রয়োজন আস্থার পুনর্গঠনও।

এআরটি নিখুঁত নয়, কিন্তু স্থায়ী জিএসপির স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশকে বন্ধ করতেই হবে

বর্তমান বিশ্বে বাজার–প্রবেশ ক্রমশ যুক্ত হচ্ছে শ্রমমান, পরিবেশনীতি, ভূরাজনৈতিক অবস্থান, ডিজিটাল শাসন ও পারস্পরিকতার সঙ্গে। এটি অন্যায্য মনে হতে পারে, কিন্তু বাণিজ্যের দিকনির্দেশ এখন এদিকেই যাচ্ছে।

ত্রিশ বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন: প্রবাসী আয়ের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় কেন জরুরি

বাংলাদেশের প্রয়োজন প্রবাসী আয় ও প্রবাসী অর্থনীতি বিষয়ক একটি মন্ত্রণালয়। এটা আমলাতন্ত্র বাড়ানোর প্রস্তাব নয় -- এটা প্রাতিষ্ঠানিক সততার দাবি।

একটা কোট কখন শুধু কোট থাকে না?

এই সংস্কৃতি শুধু আওয়ামী লীগের নয়; এই সংস্কৃতি বিএনপির এবং জামায়াতেরও -- ভিন্ন পদ্ধতির, কিন্তু একই কাঠামোর। তারাও ক্ষমতার কাছে গিয়ে গণমাধ্যম, শিক্ষাবিদ অঙ্গন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে ব্যবহার করেছে নিজেদের আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে। পার্থক্য হচ্ছে যে হাসিনা আমলে এর পরিমাণ আর সময়কাল আরও বেশি ছিল।

যে নারীরা আগুন জ্বালিয়েছিল

জুলাই ২০২৪ এখনও স্মৃতিতে তাজা। সেই নারীরা -- যারা অপেক্ষা করেনি এবং এগিয়ে এসেছিল। এখন সেই স্মৃতির জন্যও লড়াই চলছে প্রদর্শনীতে, সংগঠনে, লেখায়। এটা একটি অসমাপ্ত বিপ্লব। আর সবচেয়ে অসমাপ্ত অধ্যায়টি নারীদের।

শিশু যৌন নির্যাতন, ধর্মীয় ক্ষমতা, আর প্রতিষ্ঠানের নীরবতা

অনেক জায়গায় এখনো আইন-আদালতের প্রভাব কার্যকর নয়। সমাজ চলে ধর্মীয় প্রভাব, স্থানীয় পিতৃতান্ত্রিক ক্ষমতা, আর জনতার ভয়ের আচ্ছন্নতায়। রাষ্ট্রের হাতে যেখানে বৈধ বলপ্রয়োগের একচেটিয়া ক্ষমতা থাকার কথা, বাস্তবে সেই ক্ষমতা ছড়িয়ে আছে ধর্মীয় গোষ্ঠী, জনতা, আর প্রভাবশালী একটি জালের মধ্যে। ফলে ভুক্তভোগীর পরিবারকে আদালতে যাওয়ার আগে সমাজের বিরুদ্ধে লড়তে হয়।

সংস্কারের সময় এখনই

সমাজের রক্ষণশীল অংশ প্রায়ই “প্রথাগত পরিবার”–এর কথা উল্লেখ করে। কিন্তু বাস্তবে সমাজের অনেক স্তরেই সেই আদর্শ কাঠামো ভেঙে গেছে বা পরিবর্তিত হয়েছে। এই বাস্তবতা ধর্মীয় উপদেশ বা প্রচারের মাত্রা যতই বাড়ুক না কেন, তাতে পরিবর্তিত হবে না।

যৌন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়: বিজ্ঞান ও বাস্তবতা

বাস্তবতা হলো যে কাউন্সেলিং, থেরাপি, বৈদ্যুতিক শক, ধর্মীয় উপদেশ, কালোজাদু, জোরপূর্বক বিপরীত লিঙ্গের সাথে কাউকে বিয়ে দেওয়া, এমনকি তার সাথে যৌন সম্পর্ক -- এসব কিছুই একজন সমকামী মানুষকে বিষমকামী বানাতে পারে না (উল্টাটাও তাই)। অতএব, যৌন অভিমুখিতা একজন মানুষের জন্মগত বৈশিষ্ট্য এবং এর ভিত্তিতে কোনো প্রকার বৈষম্য করা যাবে না।

বাংলাদেশ ২.০-এ সমকামভীতি: এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা

ইতিহাস বলছে, উপমহাদেশে এক সময়ে যৌনতার বৈচিত্র্যের প্রতি সমাজের সহনশীলতা ছিল। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আইন এবং ভিক্টোরীয় নৈতিকতা, সঙ্গে ইসলাম ধর্মের ব্যাখ্যা মিলেই আজকের এই অসহিষ্ণু সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশে যৌন সংখ্যালঘু মুসলমান, হিন্দু বা অন্যদের পরিণতি কী?

তেল, সাম্রাজ্যবাদ এবং ভূরাজনীতিঃ সাত দশকে ইরানের রূপান্তর

শাহ মুখে উন্নয়ন আর আধুনিকায়নের কথা বললেও কাঠামোগতভাবে তিনি রাষ্ট্রকে স্বৈরতান্ত্রিক করে রেখেছিলেন। তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ করেন। SAVAK নামক গোপন পুলিশ বাহিনী গঠন করে হাজার হাজার বিরোধী নেতৃবৃন্দকে নির্যাতন, গুম আর হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এমনকি সেক্যুলার বা মার্কিনবিরোধী বামপন্থী মতাদর্শীরাও তাঁর আগ্রাসনের শিকার হয়েছিল।

কীভাবে অল্প সময়ে মানুষের আস্থা হারাতে হয়

যদি বিএনপির উদ্দেশ্য হয়ে থাকে মানুষকে বোঝানো যে তাদের প্রতিপক্ষ যা বলে তার সবই সত্য -- যেমন তারা বদলায়নি, এখনও তারা স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক আনুগত্যকেই অগ্রাধিকার দেয় -- তাহলে এর চেয়ে আরও কার্যকর বার্তা তারা আর দিতে পারত না।

বিএনপির "কেন্দ্রীয় ব্যাংক" এর ভুল

এই যে পারসেপশন, এই সিগ্নালিং  এইটাই আগামীতে সংকট তৈরি করবে যার প্রভাব পড়বে টাকার মানের উপরে কারন একটা ১০ পয়সার কাগজকে কেন আপনি ১০০ টাকা মনে করেন তা আস্থা ও পারসেপশনের উপরে নির্ভরশীল।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশকে যা দিল

ড. ইউনূস ও তাঁর উপদেষ্টারা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সচল কোনো রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেননি। তাঁরা দায়িত্ব নিয়েছিলেন একটি প্রাতিষ্ঠানিক ধ্বংসস্তূপের। তারপর শুরু হয় পুনর্গঠন।

ড. ইউনূস কোথায় ঠিক ছিলেন, আর কোথায় ছিলেন না

বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টাকে বাংলাদেশ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে যখন দেশের অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। সরকারে তার রেকর্ড, অনুমানযোগ্যভাবে, মিশ্র। এর চেয়ে বেশি আশা করা কি ন্যায্য ছিল?

এটাই কি সেই বাংলাদেশ, যেটা আমরা চেয়েছিলাম?

নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আর সংখ্যালঘু অধিকারকে কেন্দ্রবিন্দুতে আনতেই হবে। সীমান্তের ওপার থেকে আসা উসকানিমূলক অভিযোগের জন্য নয়, বরং কারণ এটা নৈতিকভাবে সঠিক।

যে নির্বাচন বাংলাদেশের প্রয়োজন, কিন্তু যা হচ্ছে না

সময়ের দিক থেকেও কথাটা একেবারে ঠিক জায়গায় এসে পড়েছে। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই দেশ আবার পরিচিত এক ঘোরে ঢুকে পড়েছে। লক্ষ করার বিষয় হলো -- কী বলা হচ্ছে, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ কী বলা হচ্ছে না।