যৌন অভিমুখিতা এবং লিঙ্গ পরিচয় যেহেতু জৈবিক এবং অপরিবর্তনীয়, সেহেতু এগুলোর ভিত্তিতে বাংলাদেশ ২.০-এ কোনো প্রকার রাষ্ট্রীয় বৈষম্য মেনে নেওয়া যাবে না।
নারীদের প্রকৃত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে আইনকে হতে হবে স্পষ্ট সংজ্ঞাসম্পন্ন, প্রয়োগে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বাস্তবে কার্যকর। কেবল আইনি সংস্কারই যথেষ্ট নয় -- প্রয়োজন আস্থার পুনর্গঠনও।
বর্তমান বিশ্বে বাজার–প্রবেশ ক্রমশ যুক্ত হচ্ছে শ্রমমান, পরিবেশনীতি, ভূরাজনৈতিক অবস্থান, ডিজিটাল শাসন ও পারস্পরিকতার সঙ্গে। এটি অন্যায্য মনে হতে পারে, কিন্তু বাণিজ্যের দিকনির্দেশ এখন এদিকেই যাচ্ছে।
চূড়ান্ত চ্যালেঞ্জটি ‘বাঙালি’ না ‘মুসলমান’ -- এই দ্বৈত পছন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এই দুই পরিচয়ের সহাবস্থানকে একটি গণতান্ত্রিক, বহুত্ববাদী ও আত্মবিশ্বাসী সমাজের বিস্তৃত কাঠামোর মধ্যে উপলব্ধি করা। এই ভ্রান্ত দ্বন্দ্ব অতিক্রম করেই বাঙালি মুসলমানরা তাদের দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা কাটিয়ে একটি স্থিতিশীল আত্মপরিচয় গড়ে তুলতে পারে।
বাংলাদেশের প্রয়োজন প্রবাসী আয় ও প্রবাসী অর্থনীতি বিষয়ক একটি মন্ত্রণালয়। এটা আমলাতন্ত্র বাড়ানোর প্রস্তাব নয় -- এটা প্রাতিষ্ঠানিক সততার দাবি।
রন্ধনশিল্পে ইরান বহুদিন ধরেই এক সমৃদ্ধ কেন্দ্র। শুধু নিজের খাবারের জন্যই নয়, ইরানের রন্ধনপ্রথা প্রভাব ফেলেছে তুরস্ক, রাশিয়া, মধ্য এশিয়া এবং উপমহাদেশে। আশ-এ-আনার হচ্ছে কিমা মাংস ও ডালিম বীজ দিয়ে তৈরি একটি জনপ্রিয় স্যুপ, যা শীতকালে বেশি খাওয়া হয়।
এই সংস্কৃতি শুধু আওয়ামী লীগের নয়; এই সংস্কৃতি বিএনপির এবং জামায়াতেরও -- ভিন্ন পদ্ধতির, কিন্তু একই কাঠামোর। তারাও ক্ষমতার কাছে গিয়ে গণমাধ্যম, শিক্ষাবিদ অঙ্গন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে ব্যবহার করেছে নিজেদের আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে। পার্থক্য হচ্ছে যে হাসিনা আমলে এর পরিমাণ আর সময়কাল আরও বেশি ছিল।
জুলাই ২০২৪ এখনও স্মৃতিতে তাজা। সেই নারীরা -- যারা অপেক্ষা করেনি এবং এগিয়ে এসেছিল। এখন সেই স্মৃতির জন্যও লড়াই চলছে প্রদর্শনীতে, সংগঠনে, লেখায়। এটা একটি অসমাপ্ত বিপ্লব। আর সবচেয়ে অসমাপ্ত অধ্যায়টি নারীদের।
অনেক জায়গায় এখনো আইন-আদালতের প্রভাব কার্যকর নয়। সমাজ চলে ধর্মীয় প্রভাব, স্থানীয় পিতৃতান্ত্রিক ক্ষমতা, আর জনতার ভয়ের আচ্ছন্নতায়। রাষ্ট্রের হাতে যেখানে বৈধ বলপ্রয়োগের একচেটিয়া ক্ষমতা থাকার কথা, বাস্তবে সেই ক্ষমতা ছড়িয়ে আছে ধর্মীয় গোষ্ঠী, জনতা, আর প্রভাবশালী একটি জালের মধ্যে। ফলে ভুক্তভোগীর পরিবারকে আদালতে যাওয়ার আগে সমাজের বিরুদ্ধে লড়তে হয়।
সমাজের রক্ষণশীল অংশ প্রায়ই “প্রথাগত পরিবার”–এর কথা উল্লেখ করে। কিন্তু বাস্তবে সমাজের অনেক স্তরেই সেই আদর্শ কাঠামো ভেঙে গেছে বা পরিবর্তিত হয়েছে। এই বাস্তবতা ধর্মীয় উপদেশ বা প্রচারের মাত্রা যতই বাড়ুক না কেন, তাতে পরিবর্তিত হবে না।
বাস্তবতা হলো যে কাউন্সেলিং, থেরাপি, বৈদ্যুতিক শক, ধর্মীয় উপদেশ, কালোজাদু, জোরপূর্বক বিপরীত লিঙ্গের সাথে কাউকে বিয়ে দেওয়া, এমনকি তার সাথে যৌন সম্পর্ক -- এসব কিছুই একজন সমকামী মানুষকে বিষমকামী বানাতে পারে না (উল্টাটাও তাই)। অতএব, যৌন অভিমুখিতা একজন মানুষের জন্মগত বৈশিষ্ট্য এবং এর ভিত্তিতে কোনো প্রকার বৈষম্য করা যাবে না।
ইতিহাস বলছে, উপমহাদেশে এক সময়ে যৌনতার বৈচিত্র্যের প্রতি সমাজের সহনশীলতা ছিল। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আইন এবং ভিক্টোরীয় নৈতিকতা, সঙ্গে ইসলাম ধর্মের ব্যাখ্যা মিলেই আজকের এই অসহিষ্ণু সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশে যৌন সংখ্যালঘু মুসলমান, হিন্দু বা অন্যদের পরিণতি কী?
একটি ব্যাংকিং সিস্টেমে লুটেরা ডিরেক্টর বা বোর্ড শুধু নয়, ওই ব্যাংকের চড়া সুদে অর্থ রাখা আমানতকারী, ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার, ক্রেডিট অ্যাসেস যারা করেছে, ব্যাংকের অনুমোদন যারা দিয়েছে, সেই ব্যাংকের জেড ক্যাটাগরির শেয়ার যারা কিনেছে, তারা সবাই বিভিন্নভাবে লোভের শিকার।
শাহ মুখে উন্নয়ন আর আধুনিকায়নের কথা বললেও কাঠামোগতভাবে তিনি রাষ্ট্রকে স্বৈরতান্ত্রিক করে রেখেছিলেন। তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ করেন। SAVAK নামক গোপন পুলিশ বাহিনী গঠন করে হাজার হাজার বিরোধী নেতৃবৃন্দকে নির্যাতন, গুম আর হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এমনকি সেক্যুলার বা মার্কিনবিরোধী বামপন্থী মতাদর্শীরাও তাঁর আগ্রাসনের শিকার হয়েছিল।
যদি বিএনপির উদ্দেশ্য হয়ে থাকে মানুষকে বোঝানো যে তাদের প্রতিপক্ষ যা বলে তার সবই সত্য -- যেমন তারা বদলায়নি, এখনও তারা স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক আনুগত্যকেই অগ্রাধিকার দেয় -- তাহলে এর চেয়ে আরও কার্যকর বার্তা তারা আর দিতে পারত না।
এই যে পারসেপশন, এই সিগ্নালিং এইটাই আগামীতে সংকট তৈরি করবে যার প্রভাব পড়বে টাকার মানের উপরে কারন একটা ১০ পয়সার কাগজকে কেন আপনি ১০০ টাকা মনে করেন তা আস্থা ও পারসেপশনের উপরে নির্ভরশীল।