নির্বাচনী মঞ্চে দাঁড়িয়ে একজন রাজনীতিবিদ যদি ধরে নেন যে আল্লাহ কাকে আশীর্বাদ করবেন, কার ইবাদত গৃহীত হবে আর কার বিশ্বাস যথেষ্ট -- তা নির্ধারণ করার কর্তৃত্ব তার আছে, তাহলে আপাতদৃষ্টিতে ঐশী এখতিয়ারও রাজনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণের আওতায় চলে এসেছে।
দরিদ্র ও এতিম শিশুদের নামে দেশ-বিদেশ থেকে আসা কোটি কোটি টাকার অনুদান আর জাকাতের কোনো হিসাব থাকে না। এই লুণ্ঠনের রাজত্ব টিকিয়ে রাখতেই তারা সাধারণ মানুষের কৌতূহলকে দমিয়ে রাখে।
যে প্রতিরক্ষা চুক্তি কেবল তখনই কার্যকর যখন প্রকৃতপক্ষে কেউ আক্রমণের শিকার হচ্ছে না, তা কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি নয়।
রাজনৈতিক মতভেদ অনিবার্য, ক্ষোভও অনিবার্য, এমনকি বাংলাদেশের ইতিহাস ও রাজনীতি নিয়ে গভীর মতপার্থক্যও অনিবার্য -- কিন্তু শারীরিক ভয়ভীতি প্রদর্শন অনিবার্য হওয়া উচিত নয়।
আধুনিক শিশু সুরক্ষা শিশুদের প্রায় বিপরীত একটি জিনিস শেখায়: তোমার শরীর তোমারই। শিক্ষক, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, আত্মীয় বা অন্য যেকোনো প্রাপ্তবয়স্কের অনুচিত স্পর্শ তুমি প্রত্যাখ্যান করতে পারো। কর্তৃত্বে থাকা কারও বিরুদ্ধেও তুমি অভিযোগ জানাতে পারো। তুমি ভয় পেলে কাউকে বলতে পারো।
বাংলাদেশে একটি জাতীয় যৌন অপরাধী নিবন্ধন নেই -- যা ধর্মীয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাউকে শিশুদের ওপর তত্ত্বাবধানমূলক কর্তৃত্ব দেওয়ার আগে যাচাই করা হয় -- যা বরখাস্তকৃত নির্যাতনকারীদের পরিষ্কার নথিপত্র নিয়ে অন্য কোথাও পুনরায় আবির্ভূত হওয়া রুখতে পারে।
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে হলে স্থানীয় পর্যটক হিসেবে আমরা কী কামনা করি, তার বাইরে গিয়ে বিদেশি পর্যটকরা কীসে আগ্রহী বলে আমাদেরকে জানাচ্ছে সেদিকেই দৃষ্টি দিতে হবে।
বেগম রোকেয়া যদি বেঁচে থেকে "অবরোধবাসিনী" নামটি দেখতেন -- যেই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নারী শিক্ষার্থীরা এসব বিধিনিষেধকে চ্যালেঞ্জ করছেন -- তাহলে হয়তো তিনি এর নতুনত্বের আগে এর ধারাবাহিকতাটাই চিনে ফেলতেন।
বঙ্গোপসাগরের নিরাপত্তা কি রাতারাতি উন্নত হবে? ভারতের সঙ্গে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কি সহজ হবে? মিয়ানমারের সঙ্গে সমস্যাগুলোর সমাধান হবে? রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হবে? জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে? উত্তর যদি না হয়, তাহলে একটি কঠিন প্রশ্ন করতেই হবে -- কোন সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে আমরা কোন নতুন সমস্যা আমদানি করছি?
নবী মুহাম্মদ (সা.) শুধু ন্যায় ও ন্যায্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্বই দেননি; তিনি এমন নিয়ম ও প্রতিষ্ঠানও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল এমন একটি ‘উভয় পক্ষের জন্য কল্যাণকর’ (win-win) ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে সমাজের সকল সদস্যের অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।
যে সংস্কৃতি নির্যাতন সহ্য করার জন্য নারীদের প্রশংসা করে, তা অনিবার্যভাবেই নির্যাতনকারী পুরুষদের জবাবদিহিতাকে দুর্বল করে দেয়।
যদি আমাদের কারাগারসমূহ এমন মানুষদের আটক রাখে, যাদের অপরাধ রাষ্ট্র দ্রুত প্রতিষ্ঠা করতে না পারে, তাহলে ক্ষমতায় কোন দল আছে তাতে সামান্যই আসে যায়।
রাজনৈতিক পরিবর্তন সুযোগের জন্ম দেয়। কিন্তু সেই সুযোগ স্থায়ী অগ্রগতিতে পরিণত হবে কিনা, তা নির্ধারণ করে প্রতিষ্ঠানগুলো -- আর তাই আমাদের আশার সম্ভাবনা তাদের কাঁধেই নির্ভরশীল।
শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো সক্ষম নাগরিক, দক্ষ পেশাজীবী, উদ্ভাবনী চিন্তাবিদ এবং সমাজের উৎপাদনশীল সদস্য গড়ে তোলা। যতদিন না বাংলাদেশ এই নীতি গ্রহণ করে, ততদিন আমরা স্নাতকের ক্রমবর্ধমান হারকে উদযাপন করতেই থাকব, অথচ উপেক্ষা করে যাব সেই বাড়তে থাকা স্নাতকদের, যারা অর্থবহ কর্মসংস্থান খুঁজে পাচ্ছে না।
এই শ্রেণি একদিকে তাদের সন্তানদেরকে ইংরেজি মাধ্যমে পাঠাচ্ছে, আবার একইসঙ্গে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা করছে -- সম্ভবত কওমি মাদ্রাসাগুলোকে।