যৌন অভিমুখিতা ও লিঙ্গ পরিচয়কে তালিকায় যুক্ত করার সময় এসেছে
যৌন অভিমুখিতা এবং লিঙ্গ পরিচয় যেহেতু জৈবিক এবং অপরিবর্তনীয়, সেহেতু এগুলোর ভিত্তিতে বাংলাদেশ ২.০-এ কোনো প্রকার রাষ্ট্রীয় বৈষম্য মেনে নেওয়া যাবে না।
বাংলাদেশের বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সৃষ্ট এবং অধিকাংশ রাজনৈতিক দল দ্বারা স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ নামক রাষ্ট্র সংস্কার-সম্পর্কিত একগুচ্ছ প্রস্তাবের তালিকাভুক্ত দলিলটি বাস্তবায়নে দায়বদ্ধ বলে ঘোষণা দিয়েছে, যদিও সেই বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সরকারের কিছু দ্বিমত রয়েছে।
সেই দ্বিমত সত্ত্বেও, দিনের শেষে উপযুক্ত সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে সনদটি বাস্তবায়িত হবে -- এই প্রত্যাশায় একটি বিশেষ বিষয়কে কেন্দ্র করে এই আবেদনটি উত্থাপন করা হলো।
জুলাই সনদের ৯ নম্বর প্রস্তাবনায় “মৌলিক অধিকারসমূহের তালিকা সম্প্রসারণ” শিরোনামের একটি অনুচ্ছেদে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ করা বিভিন্ন মানদণ্ডকে সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকারের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে উপযুক্ত সাংবিধানিক পরিবর্তন ও আইন প্রণয়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তাদেরই সংবিধান সংস্কার প্রতিবেদনের প্রস্তাবনা শাখায় “মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা” শিরোনামের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদে বৈষম্য থেকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য যে মানদণ্ডগুলো উল্লেখ করা আছে, তা হুবহু নিচে তুলে ধরা হলোঃ
৪. কমিশন সুপারিশ করছে যে, সংবিধানে অননুমোদিত বৈষম্যের যে সীমিত তালিকা আছে, তা পরিবর্তন করে এমন একটি তালিকা করা হোক, যেখানে ধর্ম, জাতি, বর্ণ, গায়ের রং, নৃগোষ্ঠী, ভাষা, সংস্কৃতি, লিঙ্গ, রাজনৈতিক মত, শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতা, অর্থনৈতিক অবস্থা, জন্মস্থান -- এই সবসহ আরও অনেক কারণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে (পৃষ্ঠা ৪৮, সংবিধান সংস্কার প্রতিবেদন, ১৫ জানুয়ারি ২০২৫)।
আবেদন
এই অবেদনটির মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে যে, এই বর্ধিত তালিকায় “যৌন অভিমুখিতা” (sexual orientation) এবং “লিঙ্গ পরিচয়” (gender identity)কে অন্তর্ভুক্ত করা হউক।
যৌন অভিমুখিতা
একজন মানুষের প্রতি যৌন আকর্ষণ এবং/অথবা প্রেম অনুভব করার জৈবিক ও মানসিক প্রক্রিয়ার নামই হচ্ছে যৌন অভিমুখিতা। আচরণগত জিনতত্ত্ব এবং নিউরো-বায়োলজির আধুনিক গবেষণাগুলো(1)(2)(3)(4) প্রমাণ করেছে যে মানুষের যৌন অভিমুখিতা মূলত প্রায় ৫০% জিনগত উপাদান এবং ৫০% পরিবেশগত প্রভাবের এক সম্মিলিত মেলবন্ধনের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।
এখানে জিনগত উপাদান বলতে মানুষের ডিএনএ-র অভ্যন্তরে থাকা হাজার হাজার ক্ষুদ্র জিনের জটিল মিথস্ক্রিয়াকে বিশদভাবে বোঝানো হয়েছে। আর পরিবেশগত বলতে এখানে মায়ের গর্ভের ভেতরের একটি রাসায়নিক ও জন্মপূর্ব জৌবিক পরিবেশকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি মানুষের যৌন অভিমুখিতা একটি জৈবিক বাস্তবতা।
আপনি যদি বিপরীত লিঙ্গের কারও প্রতি যৌন আকর্ষণ অনুভব করেন বা তার প্রেমে পড়েন, তাহলে আপনি বিষমকামী বা স্ট্রেইট বা হেটেরোসেক্সুয়াল। আর যদি একই লিঙ্গের কারও প্রতি আকৃষ্ট হন বা তার প্রেমে পড়েন, তাহলে আপনি সমকামী বা হোমোসেক্সুয়াল (পুরুষ হলে গে, নারী হলে লেসবিয়ান)। আর যদি উভয় লিঙ্গের প্রতিই আকর্ষণ অনুভব করেন বা প্রেমে পড়তে পারেন, তাহলে আপনি উভকামী বা বাইসেক্সুয়াল।
একটি গবেষণার সংক্ষিপ্ত বিবরণে(5) বর্ণনা করা হয়েছে যে, কাউন্সেলিং, থেরাপি, বৈদ্যুতিক শক, ধর্মীয় উপদেশ, কালোজাদু, জোরপূর্বক বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গে কাউকে বিয়ে দেওয়া, এমনকি তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক -- এসব কিছুই একজন সমকামী মানুষকে বিষমকামী বানাতে পারে না (উল্টোটাও তাই)। অর্থাৎ একজন মানুষের যৌন অভিমুখিতা অপরিবর্তনীয়।
লিঙ্গ পরিচয়
একজন মানুষের "জৈবিক লিঙ্গ" মূলত তার ক্রোমোজোম, হরমোন এবং জন্মগত শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে। সমাজ এবং আইনের ভাষায় এটাকে "লিঙ্গ" বলা হয়। এছাড়াও রয়েছে তার "লিঙ্গ পরিচয়" -- অর্থাৎ নিজের গভীরতম ভেতর থেকে (অনেক সময় শৈশব থেকেই) সে নিজেকে পুরুষ, নারী বা অন্য কোনো পরিচয়ে কীভাবে উপলব্ধি করে। অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে, অর্থাৎ সিসজেন্ডারদের ক্ষেত্রে, এই দুটি বিষয় এক হলেও, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত হতে পারে। এই মানুষগুলো হলো আমাদের রূপান্তরকামী বা ট্রান্সজেন্ডার বন্ধুরা।
এই অসামঞ্জস্যতার কারণে তাদের মনে “জেন্ডার ডিসফোরিয়া” নামক একটি গূঢ় মানসিক অবস্থার সৃষ্টি হয়, যা নিচের গ্রন্থপঞ্জির (6) এবং (7) নম্বর নিবন্ধগুলোতে বর্ণনা করা হয়েছে। মানুষের এই অভ্যন্তরীণ লিঙ্গ পরিচয়টি মূলত জন্মগত এবং অপরিবর্তনীয়। তবে রূপান্তরকামীদের জন্য হরমোন চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের জৈবিক লিঙ্গকে তাদের লিঙ্গ পরিচয়ের কাছাকাছি এনে এই অসামঞ্জস্যতাজনিত অসহনীয় মানসিক যন্ত্রণাটি বহুলাংশে লাঘব করা যায়।
আরেক ধরনের মানুষ আছে, যারা জেন্ডার ডিসফোরিয়ার কারণে, তাদের জৈবিক লিঙ্গ যাই থাকুক না কেন, নিজেদের ভেতর থেকে কখনোই অনুভব করতে পারে না যে তারা সম্পূর্ণ পুরুষ বা সম্পূর্ণ নারী। তারা আমাদের "অদ্বৈত" বা "নন-বাইনারি" বন্ধুরা, এবং তাদের লিঙ্গ পরিচয়ও “নন-বাইনারি”।
সংবিধান সংশোধন
যৌন অভিমুখিতা এবং লিঙ্গ পরিচয় যেহেতু জৈবিক এবং অপরিবর্তনীয়, সেহেতু এগুলোর ভিত্তিতে বাংলাদেশ ২.০-এ কোনো প্রকার রাষ্ট্রীয় বৈষম্য মেনে নেওয়া যাবে না।
এই উদ্দেশ্যে দাবি করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশের সংবিধানের ২৮ নম্বর অনুচ্ছেদে -- যেখানে বলা আছে, “কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবে না” -- সেখানে বৈষম্য করা যাবে না এমন মানদণ্ডের তালিকায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশকৃত সকল মানদণ্ড যুক্ত করার পাশাপাশি “যৌন অভিমুখিতা” এবং “লিঙ্গ পরিচয়”কেও নির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হউক।
এই দুটি মানদণ্ড অন্তর্ভুক্ত হলে বাংলাদেশের যৌন ও লিঙ্গ সংখ্যালঘু (এলজিবিটি+) সম্প্রদায়ের সকল সদস্যদের বিরুদ্ধে সকল ধরনের বৈষম্য সাংবিধানিকভাবে নিষিদ্ধ হয়ে যাবে। পরিবার, আত্মীয়স্বজন, পরিচিত কেউ বা পাড়ামহল্লার কারও কাছ থেকে শারীরিক বা প্রাণনাশের হুমকির মধ্যে পড়লে আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সুরক্ষা লাভ করতে সক্ষম হব এবং রাষ্ট্রে আমাদের ন্যায্য অবস্থান নিশ্চিত করতে পারব।
কোনো বিদ্বেষমূলক বাড়িওয়ালা যদি আমাদেরকে ভাড়াকৃত বাসস্থান থেকে উচ্ছেদ করে, অথবা কোনো প্রতিষ্ঠান প্রমাণিত বৈষম্যের ভিত্তিতে আমাদেরকে চাকরিচ্যুত করে, সেই ক্ষেত্রে আশ্বাস ও ন্যায়বিচারের জন্য আমরা আমাদের সংবিধানের দিকে প্রত্যাশাভরে তাকাতে পারব।
রাজনীতি
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে বাংলাদেশ আবারও একটি সংসদীয় গণতন্ত্রে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ক্ষমতাসীন মধ্যপন্থী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে -- যার ফলে ইসলামপন্থী ও অন্যান্য রক্ষণশীল বিরোধী দলগুলোর নিশ্চিত প্রতিরোধ সত্ত্বেও তারা চাইলে সংবিধানে উপরোক্ত দুটি মানদণ্ড অন্তর্ভুক্ত করতে সক্ষম হবে।
এটা নিরাপদেই বলা যায় যে বর্তমান সুযোগের এই জানালাটা একবার বন্ধ হয়ে গেলে দীর্ঘ সময় বাংলাদেশের সংবিধানে হয়তো আর হাত দেওয়া হবে না।
এই আবেদনটির জন্য সম্মানিত পাঠকদের সমর্থন প্রয়োজন। অনুগ্রহ করে এই সংযুক্তিতে স্বাক্ষর করুন: https://c.org/HPJf6JQNM9
রিয়াজ ওসমানী একজন রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষক।
গ্রন্থপঞ্জি
1. Ganna et al. (2019) – Polygenic Architecture & Missing Heritability in Same-Sex Sexual Behavior সমলিঙ্গ যৌন আচরণের ক্ষেত্রে বহুজিন-ভিত্তিক গঠন এবং অনুদঘাটিত বংশগতীয় প্রভাব
সূত্র: Science Journal / PMC (National Center for Biotechnology Information)
অবদান: এই যুগান্তকারী ডিএনএ নকশা মেলানোর বিজ্ঞানসম্মত পরীক্ষা যৌন অভিমুখিতার বহুজিনগত কাঠামোর মানচিত্র তৈরি করেছে। এটি প্রমাণ করে যে, একক কোনো "গে জিন" বা সমকামী বংশাণুর পরিবর্তে মানুষের ডিএনএ-র হাজার হাজার ক্ষুদ্র জিনের এক অনন্য জন্মগত বিন্যাস এই বৈশিষ্ট্যের পেছনে কাজ করে। এর মাধ্যমে জিনবিজ্ঞানের দীর্ঘদিনের এক বড় ধাঁধার সমাধান মিলেছে ।
2. Bailey & Pillard (1991) – A Genetic Study of Male Sexual Orientation পুরুষের যৌন অভিমুখিতার একটি জিনগত গবেষণা
সূত্র: Archives of General Psychiatry
অবদান: যমজ ভাইদের ওপর পরিচালিত এই চিরন্তন গবেষণাটি প্রমাণ করে যে মানুষের যৌন অভিমুখিতা নির্ধারণে জিনগত উপাদানের প্রভাব প্রায় ৫০%।
3. Kendler et al. (2000) – Sexual Orientation, Psychiatric Disorders, and Genetic Heritability যৌন অভিমুখিতা, মানসিক ব্যাধি এবং জিনগত বংশগতি
সূত্র: Proceedings of the National Academy of Sciences (PNAS)
অবদান: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি জাতীয় যমজ নমুনার ওপর ভিত্তি করে করা এই গবেষণাটি নিশ্চিত করে যে পারিবারিক বা সামাজিক যৌথ পরিবেশের চেয়ে, মূলত প্রতিটি মানুষের নিজস্ব স্বতন্ত্র পরিবেশ এবং জিনগত উপাদানই মানুষের যৌন অভিমুখিতা নির্ধারণের প্রধান চালিকাশক্তি।
4. Bogaert et al. (2018) – Prenatal Epigenetics & Genetics: The Fraternal Birth Order Effect and Immune Responses মাতৃগর্ভকালীন এপিজেনেটিক্স ও জিনতত্ত্ব: ভ্রাতৃত্বমূলক জন্মক্রমের প্রভাব এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া
সূত্র: Proceedings of the National Academy of Sciences (PNAS)
অবদান: এই গবেষণাটি যৌন অভিমুখিতার জৈবিক প্রক্রিয়াগুলো অন্বেষণ করে। এটি দেখায় যে কীভাবে জন্মের আগে মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় প্রসবপূর্ব জিনগত প্রকাশ এবং মায়ের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রতিক্রিয়া (এপিজেনেটিক্স) — ভ্রূণের বিকাশের সময়ে একটি সুনির্দিষ্ট জৈবিক পথ বা বৈশিষ্ট্য তৈরি করে।
5. American Psychological Association (2009) – Resolution on Appropriate Affirmative Responses to Sexual Orientation Distress and Change Efforts যৌন অভিমুখিতা জনিত মানসিক কষ্ট এবং তা পরিবর্তনের প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে যথাযথ সমর্থনমূলক ব্যবস্থা বিষয়ক প্রস্তাব
সূত্র: apa.org (Official Policy Document)
অবদান: কয়েক দশকের আচরণগত বিজ্ঞানের গবেষণাকে পর্যালোচনা করে এই প্রামাণ্য দলিলটি ঘোষণা করেছে যে, যৌন অভিমুখিতা হলো মানুষের বৈচিত্র্যের একটি স্বাভাবিক রূপান্তর। এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে যে যৌন অভিমুখিতা পরিবর্তনের যেকোনো প্রচেষ্টা বৈজ্ঞানিকভাবে অকার্যকর ও ক্ষতিকর এবং এটি একজন ব্যক্তির জন্মগত জৈবিক পূর্বপ্রবণতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
6. American Psychiatric Association (2022) – What is Gender Dysphoria?জেন্ডার ডিসফোরিয়া কী?
সূত্র: psychiatry.org (Patient and Family Resource Hub based on the DSM-5-TR)
অবদান: এই উৎসটি জেন্ডার ডিসফোরিয়াকে এমন একটি মানসিক কষ্ট বা অস্বস্তি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে, যা মূলত জন্মকালীন জৈবিক লিঙ্গ এবং মানুষের অভ্যন্তরীণ লিঙ্গ পরিচয়ের মধ্যকার অমিল থেকে তৈরি হয়। এটি স্পষ্ট করে যে, লিঙ্গ পরিচয় হলো মানুষের বিকাশের একটি সহজাত ও গভীরতম মনস্তাত্ত্বিক দিক, যা সামাজিক স্বীকৃতির দাবি রাখে।
American Psychiatric Association (2022) – Gender Dysphoria Chapter, DSM-5-TR জেন্ডার ডিসফোরিয়া অধ্যায়, ডিএসএম-৫-টিআর
সূত্র: PsychiatryOnline - DSM Library
অবদান: এটি বিশ্বজুড়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং চিকিৎসা পেশাদারদের দ্বারা ব্যবহৃত একটি আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত রোগনির্ণয় নির্দেশিকা। এই অধ্যায়টি সুনির্দিষ্টভাবে জেন্ডার ডিসফোরিয়ার চিকিৎসাগত মানদণ্ড নির্ধারণ করে। এটি প্রমাণ করে যে মানুষের জৈবিক লিঙ্গ এবং লিঙ্গ পরিচয়ের মধ্যকার অসামঞ্জস্যতাজনিত তীব্র মানসিক কষ্টটি একটি স্বীকৃত স্বাস্থ্যগত অবস্থা, যা উপযুক্ত চিকিৎসা ও সহমর্মী আইনি সুরক্ষার দাবিদার—কোনো মানসিক ব্যাধি বা শখের জীবনধারা নয়।
What's Your Reaction?