ওয়াহাবি কর্তৃপক্ষ কোনো স্বাধীন নৈতিক কর্তৃপক্ষ নয়। এটি রাষ্ট্রের একটি সেবাপ্রতিষ্ঠান। আলেম শ্রেণি এমন সব ফতোয়া দেয়, যা শাসকের নিরঙ্কুশ ক্ষমতাকে পবিত্র করে তোলে।
এই কৃষি আগ্রাসন থেকে স্বাধীন হওয়ার পথ আমাদের একেবারে অজানা নয়। কৃষি বাঁচাতে হলে কৃষকের হারিয়ে যাওয়া চিরায়ত প্রজ্ঞাকে ফিরিয়ে আনা জরুরি।
দারিদ্র্য কাউকে অনৈতিক করে না, বেকারত্বও কাউকে অপরাধী বানায় না। তবে দীর্ঘস্থায়ী বঞ্চনা ও হতাশা মানুষের সামনে বেছে নেওয়ার পরিসরকে সংকুচিত করে দিতে পারে।
আমরা তাদের কথা শুনতে পারি, তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারি, তাদের দায়িত্ব দিতে পারি, তাদের বই, খেলাধুলা বা শিল্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে পারি, আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তাদের অনুভব করাতে পারি যে তারা গুরুত্বপূর্ণ -- অন্য কেউ ভুল কারণে তাদের এই অনুভূতি দেওয়ার আগেই।
আহসান মনসুরের পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকিংয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায় অনেক দূর। এগুলো এমন এক পথনকশা তুলে ধরে, যা এমন এক সময়ে জনপ্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা পুনর্নির্মাণের দিশা দেয়, যখন বাংলাদেশ তার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্তমূলক পছন্দের মুখোমুখি।
দরিদ্র ও এতিম শিশুদের নামে দেশ-বিদেশ থেকে আসা কোটি কোটি টাকার অনুদান আর জাকাতের কোনো হিসাব থাকে না। এই লুণ্ঠনের রাজত্ব টিকিয়ে রাখতেই তারা সাধারণ মানুষের কৌতূহলকে দমিয়ে রাখে।
যে প্রতিরক্ষা চুক্তি কেবল তখনই কার্যকর যখন প্রকৃতপক্ষে কেউ আক্রমণের শিকার হচ্ছে না, তা কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি নয়।
বাংলাদেশে একটি জাতীয় যৌন অপরাধী নিবন্ধন নেই -- যা ধর্মীয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাউকে শিশুদের ওপর তত্ত্বাবধানমূলক কর্তৃত্ব দেওয়ার আগে যাচাই করা হয় -- যা বরখাস্তকৃত নির্যাতনকারীদের পরিষ্কার নথিপত্র নিয়ে অন্য কোথাও পুনরায় আবির্ভূত হওয়া রুখতে পারে।
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে হলে স্থানীয় পর্যটক হিসেবে আমরা কী কামনা করি, তার বাইরে গিয়ে বিদেশি পর্যটকরা কীসে আগ্রহী বলে আমাদেরকে জানাচ্ছে সেদিকেই দৃষ্টি দিতে হবে।
শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো সক্ষম নাগরিক, দক্ষ পেশাজীবী, উদ্ভাবনী চিন্তাবিদ এবং সমাজের উৎপাদনশীল সদস্য গড়ে তোলা। যতদিন না বাংলাদেশ এই নীতি গ্রহণ করে, ততদিন আমরা স্নাতকের ক্রমবর্ধমান হারকে উদযাপন করতেই থাকব, অথচ উপেক্ষা করে যাব সেই বাড়তে থাকা স্নাতকদের, যারা অর্থবহ কর্মসংস্থান খুঁজে পাচ্ছে না।
আইনের বাইরে, সহনশীল ধর্মীয় চিন্তাবিদ এবং মধ্যপন্থী কণ্ঠগুলোকে সামনে আসতে হবে, বিকৃত ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে, এবং নৈতিক স্বচ্ছতা পুনরুদ্ধার করতে হবে। এই পথ সহজ নয়। এর জন্য পরিবার থেকে সাহস, রাষ্ট্র থেকে সতর্কতা, এবং নাগরিক সমাজ থেকে নিরলস চাপ প্রয়োজন।
নারীদের প্রকৃত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে আইনকে হতে হবে স্পষ্ট সংজ্ঞাসম্পন্ন, প্রয়োগে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বাস্তবে কার্যকর। কেবল আইনি সংস্কারই যথেষ্ট নয় -- প্রয়োজন আস্থার পুনর্গঠনও।
বর্তমান বিশ্বে বাজার–প্রবেশ ক্রমশ যুক্ত হচ্ছে শ্রমমান, পরিবেশনীতি, ভূরাজনৈতিক অবস্থান, ডিজিটাল শাসন ও পারস্পরিকতার সঙ্গে। এটি অন্যায্য মনে হতে পারে, কিন্তু বাণিজ্যের দিকনির্দেশ এখন এদিকেই যাচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রয়োজন প্রবাসী আয় ও প্রবাসী অর্থনীতি বিষয়ক একটি মন্ত্রণালয়। এটা আমলাতন্ত্র বাড়ানোর প্রস্তাব নয় -- এটা প্রাতিষ্ঠানিক সততার দাবি।
এই সংস্কৃতি শুধু আওয়ামী লীগের নয়; এই সংস্কৃতি বিএনপির এবং জামায়াতেরও -- ভিন্ন পদ্ধতির, কিন্তু একই কাঠামোর। তারাও ক্ষমতার কাছে গিয়ে গণমাধ্যম, শিক্ষাবিদ অঙ্গন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে ব্যবহার করেছে নিজেদের আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে। পার্থক্য হচ্ছে যে হাসিনা আমলে এর পরিমাণ আর সময়কাল আরও বেশি ছিল।